লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একটি ভয়াবহ পেজার বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত এবং অন্তত ২,৭৫০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিস্ফোরণটি বিশেষত দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘাঁটিতে ঘটে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা, মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং বৈরুতে অবস্থানরত ইরানের রাষ্ট্রদূত। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আশপাশের অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
হিজবুল্লাহ এই বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল এই হামলার জন্য “ন্যায্য শাস্তি” পাবে। বিস্ফোরণের পর থেকেই লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং হিজবুল্লাহর এই অভিযোগের ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তবে, রয়টার্স যোগাযোগ করলে ইসরায়েল এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জিয়াদ মাকারি এই বিস্ফোরণকে "ইসরায়েলি আগ্রাসন" বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মাকারি বলেন, হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পেজার বিস্ফোরণ ইসরায়েলের অন্যতম বড় হামলা, যা তাদের লেবাননে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ চলছে, বিশেষত গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা বিস্ফোরণটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই বিস্ফোরণের পর লেবাননে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হিজবুল্লাহ নেতৃত্ব তাদের সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
মুক্ত প্রকাশ
প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
0 মন্তব্যসমূহ